Thursday, October 29, 2015

Banglalink New Connection & Reactivation- August'15



facebook.com/dor8920.abc


Banglalink New 3G Packs



facebook.com/dor8920.abc


পিসিতে জায়গা কম কিন্তু মুভির সাইজ অনেক বেশি? তাহলে কোয়ালিটি ঠিক রেখে কমিয়ে ফেলুন মুভির সাইজ!

কম্পিউটারে মুভি বা ভিডিও দেখেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু সবার মাঝে একই রকম বাতিক থাকে সেটা হলো এইচডি মুভি দেখতে হবে। প্রিন্ট ভালো না থাকলে সেই মুভি দেখে আমিও যেমন মজা পাইনা, মনে হয় আপনারাও মজা পান না। কিন্তু ঘটনা হলো, আমার পিসিতে যে পরিমান হার্ডডিস্ক আছে তা দিয়ে আমার প্রয়োজন মতো এইচডি মুভি রাখার উপায় নেই। ভাবছিলাম কীভাবে মুভির কোয়ালিটি ঠিক রেখে সাইজ কমিয়ে ফেলা যায়। আমার ভাবনাকে উষকে দিলো এক ভাই, তিনি প্রশ্ন করলেন দরিদ্র.কম কিভাবে মুভির কোয়ালিটি ঠিক রেখে সাইজ কমিয়ে আনে? গুগল মামাকে তারপর জ্বালাতে শুরু করলাম সমস্যা সমাধানের জন্য। গুগল মামা বের করে দিলেন অসাধারন এক সফটওয়্যার! ওপেন সোর্সকে আজকাল বেশি প্রাধান্য দেই বলে ওপেন সোর্স সফটওয়্যারটিই পেয়ে গেলাম। মেডিসিন আর সিরিয়াল-কী নিয়ে সত্যিই বিরক্ত হয়ে ‍যাচ্ছি দিনের পর দিন।
HandBrake | Price Free
সফটওয়্যারের নামটা জটিল না? সফটওয়্যারটি নিয়ে টিউন করতে গিয়ে মজার কিছু অভিজ্ঞতা হলো। ইমেজ সার্চ করতে গিয়ে দেখি শুধু গাড়ির হ্যান্ডব্রেক এর ছবি আসে। পরে অগত্যা নিজেকেই ঝটপট ডাউনলোড ইমেজটা ফটোশপে তৈরী করতে হলো। যাহোক নামে কিবা আসে যায়, কাজে তার পরিচয়। চলুন ডাউনলোড শুরু করার পূর্বে এক নজরে কিছু ফিচার দেখে নিই। প্রথমেই থাকছে সফটওয়্যারের হোম স্ক্রিন, যেখানেই পাবেন সব কিছু। ব্যবহার এতোটাই সহজ যে একটা বাচ্চা ছেলের মা ও অনায়াসেই কাজ করতে পারবে, সেখানে অাপনারা তো অনেক অভিজ্ঞ।  
প্রথম দর্শন | দেখতে সাদাসিদা হলেও কাজে কিন্তু ভয়ঙ্কর | সুতরাং সাবধান
সফটওয়্যারটিতে বিল্ট-ইন ভাবে রয়েছে বিভিন্ন ডিভাইস প্রিসেট। যা আপনাকে কোন প্রকার সেটিং ছাড়ায় শুধু সিলেকশনের মাধ্যমে আপনার ডিভাইসের জন্য সেরা ভিডিও উপহার দিতে পারবে।



National Smart Card নামের এই Android App টি আপনাকে জানিয়ে দিবে কিভাবে একটি National Smart Card নিতে হবে। এছাডাও আরও অনেক কিছুর Guideline এই App টি। Bangladeshi Citizen ভাইদের জন্য এই App টি লাগবেই।

                                       
         আপনারা সবাই কেমন আছেন, আশা করি খুবভাল আছেন এবং আগামিতে যেন সব সময়ভালো থাকেন। ট্রিকবিডির পক্ষ থেকে এই কামনা রইলো  https://uploadex.com/5h7boz6k047f                   এই App টি এর বিষয়ে আমি কি বলব জানি না। এই App টির কিছু Screenshot নিচে দিলাম দেখে নিন App টি আপনাকে কি কি জানাবে   

এই App টি কাজে আসলে একটা Comments দিয়েন।

কারও Post Copy Paste করা না। নিচের লিখা Post Comments করলে খুশি হব।



বিখ্যাত মানুষদের কুখ্যাত ৩ ভূত

তারকা বা বিখ্যাত
কোন মানুষকে
সামনে থেকে দেখতে
কে না ভালোবাসে?
কিংবা তার
ছবি? নিজেদের পছন্দের মানুষটির
ব্যবহৃত যেকোন
জিনিসই ভক্তরা রেখে
দিতে চায় নিজের
কাছে।
বিশেষ করে বাস্তবে তাকে সামনে পেলে তো
চোখের
পলকই পড়তে চায় না।
কিন্তু কেমন হবে
ব্যাপারটা
,যদি জানতে পারেন যে আপনার সামনে
দাঁড়ানো
মানুষটি আদতে তারকা
নয়, বরং তার ভূত!
নিশ্চয়ই
যত ভালোবাসা ছিল তাকে নিয়ে মনের
ভেতরে সবটা
উবে যাবে? শুধু আপনি
কেন এমনটা হবে
সবচাইতে
বড় ভক্তটির ক্ষেত্রেও! কিন্তু ভয় পাওয়াতে নয়,
আপনাদেরকে
খানিকটা
আনন্দ দিতেই আজ
জানানো হল বিখ্যাত
মানুষদের এমনই কিছু কুখ্যাত
ভূতের কথা।
১. মেরিলিন মনরো
মাত্র ৩৬ বছর বয়সে
অতিরিক্ত মাদক
গ্রহনের ফলে অকালে মারা যান
বিখ্যাত এই
অভিনেত্রী।
তবে নিজের জীবনের
সময়গুলোই কেবল নয়,
তাড়াহুড়োয় চলে যাওয়ার ফলে অনেক
কাজও
অর্ধসমাপ্ত করে
গিয়েছিলেন বলে
দাবী অনেকের।
আর তাই মৃত্যুর আজ এত বছর পরেও মনরোকে
দেখতে পাওয়া যায়
তার ব্রিন্টউডের
বাড়িতে,
যেখানে তার মৃত্যু
হয়েছিল। এছাড়াও রুজভেল্ট
হোটেলেও দেখা
পাওয়া যায় মনরোর।
হোটেলের রুম
নির্বাচনে মনরোর
পছন্দে সবসময় ২৪৬ নং রুমটাই এগিয়ে থাকে।
আর ওখানেই তাকে
দেখা
গিয়েছে বেশ
কয়েকবার। এ
অভিনেত্রীর আসা- যাওয়া থেকে বাদ
পড়েনি নিজের
কবরটিও।
২. আব্রাহাম লিঙ্কন
আব্রাহাম লিঙ্কনকে
নতুন করে পরিচয় করে দেয়ার
কিছু নেই। এই নামের
সাথে কম-বেশি সবাইই
পরিচিত। কিন্তু যে
জিনিসটির সাথে
সবাই পরিচিত নয় সেটি হচ্ছে
লিঙ্কনের ভূত।
সাধারণত একে
হোয়াইট হাউজের ভূত
নামে ডাকা হয়। মারা
যাওয়ার পর থেকে এখন অব্দি
প্রায়ই লিংকনের
ভূতকে ঘুরে
বেড়াতে দেখা যায়
হোয়াইট হাউজের
ভেতরে। অনেকের ধারনা মৃত্যুর
পরের জগত নিয়ে
লিঙ্কনের
বেশ আগ্রহ ছিল।
অনেকের তার মৃত্যু, লাশ
ইত্যাদি নিয়েও নানারকম
ধারনা পোষন করেন।
যাদের মূল
কথা হচ্ছে লিঙ্কনের
ভূত আগেও ছিল এবং
এখনো বহাল তবিয়তেই
হোয়াইট হাউজে আছে।
৩. হ্যারি হুডিনি
বিখ্যাত জাদুকর
হ্যারি হুডিনিকে
একনামে ছেলে বুড়ো সবাই চেনে।
কিন্তু তার ভূতের
আবাসস্থল
সম্পর্কে জানেনা
অনেকেই। রালফ
ওয়াকার নামক এক ভদ্রলোকের সাথে
একবার বেশ বন্ধত্ব
হয়ে
যায় হুডিনির।
ভদ্রলোক পেশায়
ছিলেন রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায়ী।
তারই একটি গেস্ট
হাউজে
থাকতে খুব
ভালোবাসতেন
হুডিনি। আর সেখানেই মৃত্যু হয় তার। এরপর
হুডিনির ভূতকে নিয়ে
নানারকম কথা ওঠে।
মনে করা হয় নিজের
প্রিয়
বাড়িটি ছেড়ে পুরোপুরি চলে যেতে
পারেননি হ্যারি।
তার স্ত্রী বেস
অনেকবার চেষ্টা
করেন হুডিনির
সাথে কথা বলার। কিন্তু স্ত্রীর সাথে
কোনধরনের
যোগাযোগ করতেই
  1. চাননি হ্যারি।



জিপির বন্ধ সিম চালু করে উপভোগ করুন ৯টাকায় ১জিবি, সাথে থাকছে ১০০ এম.বি আপনার জন্য সম্পূর্ন ফ্রী!!

আসসালামু আলাইকুম…
আসা করি সকলে আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন
ভাল থাকবেনা কোন টেকটিউনসে সাথে
থাকলে তো ভাল থাকতেই হবে।
এই টা টেকটিউনসে আমার ২য় টিউন
কোন ভুল হলে ছোট ভাই ভেবে খমা করবেন
জিপির বন্ধ সিম চালু করে উপভোগ করুন ৯টাকায় ১জিবি, সাথে ১০০ এম.বি সম্পূর্ন ফ্রী!!
এ অফারটি আপনার সিমে পাবেন কি না সেটা জানার জন্য, আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন SN Number আর পাঠিয়ে দিন ৯৯৯৯ এই নাম্বারে।
[Ex. SN 017xxxxxxxxx]
যদি আপনার সিমটি গত ৩মাস বন্ধ থাকে, তাহলে অব্যশই অফার টি পাবেন, আমি নিজে নিয়েছে।
আর যদি আপনার সিমে আগামি ৩ মাস ১৫০ mb
কম ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অফার টি ব্যবহার করতে পাবেন
এখন যদি আপনি অফার টি পেয়ে থাকেন তাহলে আপনার মোবাইলএ যে কোন পরিমান রিচার্জ করে সিমটি একটিভ করুন। এখন একটিভ করার সাথে সাথেই, আপনি যে নাম্বার থেকে ৯৯৯৯ এ ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলেন, সেই নাম্বারে ১০০ এম.বি পেয়ে যাবেন।
এখন আপনার বন্ধ সিমে অফার টি এক্টিভ করার জন্য আপনার মোবাইল থেকে ডায়াল করুন *১১১*৯০#, অফারটি নেয়ার জন্য অবশ্যই মোবাইলে ৯ টাকা থাকতে হবে (ভ্যাট সহ ৯টাকা কাটবে)।
এই অফারটি চলাকালে, ১জিবি করে সর্ব্বোচ্চ ৩ বার নিতে পারবেন। তাই দেরি না করে তারাতারি নিয়ে নিন।
এই ১ জিবি ইন্টারনেট ২৪ ঘন্টা ব্যবহারের উপযোগী।
আরও বিস্তারিত এখানে



গ্রাফিক্স ডিজাইন (ফটোশপ) শিখুন ফ্রিতে ধারাবাহিক ভাবে পর্ব-1

সম্মানিত সুধী,
আসসলামু আলাইকুম। আমার পক্ষ থেকে আপনার জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আমি আপনাদের মাঝে গত টিউনে (যারা আগের টিউন দেখেন নি তাদের বিনীত অনুরোধ করছি আগের টিউনটি দেখার জন্য। তা না হলে কিছুই বুঝবেন না।গত টিউন টি দেখতে এখানে ক্লিক করুন) যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ছিলাম তা হয়তো আপনারা খুব ভালো ভাবে বুঝেছেন। আমি আপনাদের সারা পেয়ে আজ প্রথম টিউন টি শুরু করলাম। আশা করি এ ভাবে আমি প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে আপনাদের মাঝে গ্রাফিক্স ডিজাইনের (ফটোশপ) এর সকল বিষয় নিয়ে উপস্থিত হবো। আমি দেখেছি আপনাদের যথেষ্ঠ আগ্রহ আছে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার। সেই আগ্রহের আলোকে আমি ধারাবাহিক ভাবে আপনাদের সুন্দর ও সহজ ভাবে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় গ্রাফিক্স ডিজাইন (ফটোশপ) শিখাবো ইনশা আল্লাহ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আমাকে ‍সুস্থ্য রাখেন। আমি যাতে আপনাদের মাঝে দেয়া কথা রাখতে পারি। সেই শক্তি যেন আল্লাহ আমাকে দেন। আমি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল বিষয় বস্তু নিয়ে প্রতিদিন আলোচনা করব। আমার সকল ভিডিও টিউটোরিয়াল গুলো আমার নিজস্ব ইউটিব চ্যানেলে পাবেন। শুধু তাই নয় আজকের প্রথম টিউটোরিয়াল টি আমি যথারীতি আমার চ্যানেলে আপলোড দিয়েছি। এখনি সেই টিউটোরিয়াল টি দেখা শুরু করুন। আর শিখতে থাকুন গ্রাফিক্স ডিজাইন (ফটোশপ)। আমার চ্যালেঞ্জ ইনশা আল্লাহ আমি আপনাদের দক্ষ করে দেখাবো অবহেলিত মানুষ কে কাজে লাগিয়ে দক্ষ করে আমরাও তুলতে পারি  

সকল ভিডিও দেখার জন্য  ইউটিউব চ্যানেলটি এখনি সাবস্কাইব করুন :   এখানে ক্লিক করুন

পর্ব-1- এর ভিডিও লিংক :    এখানে ক্লিক করে ভিডিও টি দেখুন

সকল টিউটোরিয়াল গুলোর সংবাদ পেতে এখনি এই পেইজে লাইক দিন :    এখানে ক্লিক করুন 
     আশা করি আপনাদের মাঝে প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয় নিয়ে উপস্থিত হবো।
টিউনে আমার কথায় অনেক ভুল ত্রুুটি থাকতে পারে। সে জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। মানুষ মাত্রই ভূল। আমিও মানুষ। তাই অনুগ্রহ পূর্বক কেউ বাজে কোন টিউমেন্ট করবেন না। টিউটোরিয়াল ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক দিবেন এবং টিউমেন্ট করে জানাবেন। যদি কারো কোন সমস্যা হয় বুঝতে ইনশা আল্লাহ আমি টিউমেন্ট এ জবাব দিব।
সবাই কে আবারও ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি আল্লাহ হাফেজ।

  https://www.facebook.com/Adobe-Photoshop-Tutorial-BD-1506732466318500



Monday, October 26, 2015

Update your sim info



facebook.com/dor8920.abc





Sunday, October 25, 2015

ভৌতিক গল্পঃ- নূপুরধ্বনি

অন্ধকার রাত। চারপাশ অন্ধকারের কালো কুয়াশায় ঢেকে রয়েছে। যতদূর চোখ যায় শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকার।
নয়জি বয়েস। মেসের নাম। মেসটা ছিল  লোকালয় ছেড়ে প্রায় উত্তর পশ্চিম সীমান্তে। মেস থেকে কয়েক কদম হাটলেই চন্ডি পাড়া শুরু হয়। কালীমন্দিরের সামনে দিয়ে মেসের রাস্তা চলে গেছে। কালীমন্দিরের দিকে আমি অন্তঃনয়ন দিয়ে যতই না তাঁকাতে চাই তবুও দৃষ্টি চলে যায়। যৌবন সত্যিই লাজ-লজ্জাহীন। মাঝে মাঝে খুব রাগ হয়। তবে, ভুলেও কখনো আঙ্গুল তুলে প্রতিমার দিকে তাকাই নাই। হিন্দুধর্মের মাঝে নাকি একটা ট্যাবু আছে, যারা আঙুল তুলে প্রতিমাকে দিকে দেখায় তাদের নাকি মাঝরাত্রিতে কালীদেবী দেখা দেয়। কালীদেবীর দেখা পাওয়া মানে তার নিশ্চিৎ মৃত্যু !
কালীমন্দির ফেলে কয়েক কদম এগুলে উত্তর পাশে নারায়ণ গুচ্চুর ফাঁকা ভিটে। একটা বনের বেড়া আর টিনের চালার ঘর।সেখানে তেমন কেউ থাকত না।মাঝে মাঝে গুচ্চুর ছেলে পাঁচন থাকতেন । বছর পাঁচেক আগে তাকে তিনিও নাকি ঘরের ভিতর মারা যান। পাঁচন বাবুর মৃত লাশে অনেক আঁচড় পাওয়া যায়। দক্ষিন দিকে ঝোঁপ-ঝাঁড় ঘেঁষে একটা মেটে রাস্তা চলে গেছে সোজা পুষ্কুনির পাশ দিয়ে।
চাঁনপুকুর। পুকুরের নাম চাঁনপুকুর হলেও এ যাবৎকালে কাউকে সেখানে স্নান করতে দেখা যায়নি। ওই রাস্তার সাথেই ছিল
গফুর মুন্সির আখের (ক্ষেত)বাগান, আর বাগানের  ধার ঘেঁষেই চাঁনপুকুর। করচা আর আখের বাগানের অর্ধেকই পুকুরে নেমে এসেছে। লোকমুখে শোনা যায়,ওই পুকুরের পানি কোনদিন শুকাতো না। সুন্দর ঘাঁট করা পুকুর । সবুজাভ কালো রঙের পানি। পুকুরের পানিতে একটু পর-পরই খাবি খাওয়ার শব্দ শোনা যায়। অনেক মাছ হবে বোধহয়। পরিত্যক্ত পুকুর বলে কথা !
মেসে আমরা বড়-ছোট মিলিয়ে প্রায় দশ-বারো জন ছিলাম।সবাই হোমড়া-চোমড়া স্বাস্থ্যের অধিকারী। কেবল আমিই বোধহয় একটু জোরে হাওয়া দিলে হেলে পড়তাম। আমার অবশ্য এতে কোন আক্ষেপ ছিল না। সারাদিন চুটিয়ে আড্ডা আর রাতে মনোযোগ দিয়ে পড়া। বেশ কেটে যাচ্ছিলো।
বাড়িটায় আমরাই ছিলাম সর্বেসর্বা। বাড়িওয়ালা বিশেষত এ বাড়িতে থাকতেননা। মাস শেষে এসে শুধু ভাড়াটা নিয়ে চলে যান। লেখাপড়া করার জন্য শহরে এসেছি কিন্তু থাকার জন্য যে এমন গ্রাম্য এলাকা পাওয়া যাবে ভেবেই অবাক লাগছে। ভাড়া স্বল্প। বাড়ির অবস্থাও বেশ ভালো ছিল। সব মিলিয়ে একটা সুপার প্যাকেজ!
আমার একটা আলাদা বদঅভ্যেস ছিল। দিনের চেয়ে রাত জেগে পড়ার প্রতি বেশি ঝোঁক । দেখা যেত কোন কোন দিন পড়তে পড়তে রাত তিনটে চারটে বেজে যেত। আমি যতক্ষন জেগে থাকতাম,ততক্ষন আর কেউ জেগে থাকত না। সবাই তখন গভীর ঘুমে মগ্ন থাকতো । রাসেল ভাই আর সম্ভু ভাই মাঝে মাঝে সিগারেট খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠতেন তবে সবদিন না হঠাৎ হঠাৎ !
রাত জাগার সুবাদে প্রায়দিনই আমি এক অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিষের দর্শন পেতাম। ঘরের চারকোনায় অদৃশ্য নুপুরের আওয়াজ। কেউ শুনতো কিনা জানিনা তবে আমি শুনতাম। অতি মোহনীয় তার রিনিঝিনি নুপুরের শব্দ। প্রায়সময়ই লেখাপড়ার চেয়ে শব্দটা শোনার জন্য অপেক্ষা করে থাকতাম। কিন্তু, কখনো দুঃসাহস করে ঘর থেকে দু’পা ফেলে দেখা হয়ে উঠতোনা অচেনা জিনিষটাইবা কি ?
শুক্রবারের রাত। আকাশ পুরো অন্ধকার। বাইরে প্রচন্ড গরম পড়েছে। ঘরের বাইরের জানালাটা ভেজিয়ে দেওয়া । ভিতরের দরজা জানালা বন্ধ করে ঘরে বসে পড়ছি। সম্ভু ভাইয়ের কড়া নির্দেশ হাজারো গরম কিংবা শব্দ হলেও দরজা-জানালা খোলা যাবেনা। আমার ঘরটা ছিলো দক্ষিন পাশের সরু রাস্তাটার সাথে। যে রাস্তাটা পুষ্কুনির পাঁশ দিয়ে দূরের একটা লোকালয়ে চলে গেছে। আমার ঘরের একটা জানালাও সেদিকে ছিল। অত্যাধিক গরমে অসহ্য হয়ে, বাইরের হাওয়া ঘরে প্রবেশ করানোর জন্য কয়েকটা জানালা খুলে দিয়েছি। পরীক্ষার আগের রাত যেন খুব তাড়াতাড়িই গভীর হয়ে যায়। বন্ধুদের অনেকেই দশটা না বাজতে আজ শুয়ে পড়েছে। কিন্তু, প্রতিদিনের অভ্যেস বশত ঘুমাতে অনেক দেরি হয় বই পড়ছি।পড়তে পড়তে কেবলই তন্দ্রা মত এসেছি,ওমনি জানালায় মৃদু টোকার শব্দ শুনতে পাওয়া গেল। একবার নয় দু..দু’বার !
চোখের পাতা থেকে ঘুম শব্দটা উবে গেল। ছ্যাৎ করে চমকে উঠলাম। টেবিল ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখি রাত ০২.৩৯ বাজে। ভাবলাম,এত রাতে কে টোকা দিল! তারপর মনে হলো, হয়ত আশেপাশের কোন লোক
রাস্তা দিয়ে যেতেই হাতের টোকা লেগেছে।তাই তেমন গুরুত্ব দিলাম না।
আর রাত যেহেতু অনেক হয়েছে তাই দেরি না করে ঘুমাবো বলে লাইট অফ করে দিলাম। কিছুক্ষনের মধ্যে চোখ ভার করে ঘুম চলে এসেছে প্রায়, এমন সময় আবার
দু’টো টোকা। এবারের টোকা গুলো আগের গুলোর চেয়ে জোড়ে হলো। বুকে হপারের মত শব্দ হচ্ছিলো। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ নিজেই শুনতে পাচ্ছিলাম। ধরফর করে বিছানা ছেঁড়ে উঠে  বসে পড়লাম।জোড়ে করে
বললাম, “কে? ”
কোন সাড়া পেলাম না।
হাতের কাছের বেড সুইচ টা দিয়ে আলো জ্বালালাম। আলো জ্বালানোর সাথে সাথে জানালার পাশ থেকে কে যেন পুকুরের দিকে প্রথমে আস্তে পরে জোড়ে হেটে চলে গেলো। নিঝুম রাত্তিরে স্পষ্ট পায়ের শব্দ পেলাম”’ না কিন্তু সুর তোলা নুপুরের আওয়াজ বলে দিল সব। ভয়ে ভয়ে জানালা দিয়ে বাইরে উঁকি দিলাম। কিন্তু কই? কেউ নেই তো। ঘরের টিউবলাইটের সাদা আলো জানালার ফাঁক গলে রাস্তার উপর পড়েছে। সেখানে অন্ধকার কুয়াশা ছাড়া আর কিছু নেই।
কি আর করা,জানালা বন্ধ করে আবার শুয়ে পড়লাম। মনে মনে নিজের বোকামির কথা ভেবে নিজেই লজ্জা পেলাম। সকালে উঠে কাউকেই কিছু বললাম না। শেষে সবাই এ নিয়ে হাসাহাসি করে! মনকে বুঝালাম,
দূর, ভূত টুত কিছু না। সব মনের বিভ্রম!
দ্বিতীয়দিন। সেদিনও পড়ালেখা শেষ করে সাড়ে দেড়টা নাগাদ বিছানায় শুলাম।মেসের অন্যরা অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু আমার চোখে তখনো ঘুম আসেনি।
আমি পুরোপুরি সজাগ। হঠাৎ আবারো
জানালায় জোড়ে জোড়ে দু’টো টোকা পড়লো। আকষ্মিক এ শব্দে আমার বুক ধরফর ধরফর করে উঠলো। স্পষ্ট জানালায় টোকা দেয়ার শব্দ শুনতে পেলাম। বুকে একটু সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞাসা করলাম, ”
কে? কে ওখানে? ”
কেউ কোন কথা বলল না, শুধু একটা মেয়েলি হাসি শুনার শব্দ পাওয়া গেল।তারপর কেউ নুপুর পায়ে দৌড়ে গেলে যেমন শব্দ হয়,তেমন একটা শব্দ। গা ছম ছম করে উঠলো। ওটা কে হতে পারে !
জানালার ছোট্ট ফোঁকড় দিয়ে মাথা গলিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। অদূরে একজন রমণী তার তানপুরার মত নিতম্বকে বাঁকিয়ে হেটে যাচ্ছে। কিছুটা সন্দেহ হল।কিন্তু বাইরে বেড়িয়ে দেখার মত সাহস হলোনা।
কৌতুহূলী মন মানছেনা। নূপুরধ্বনির শব্দটা আবার শোনা গেল। শব্দের উৎপত্তিটা মনে হল একদম শিয়রের পাশ থেকে আসছে। সব সন্দেহ ঝেড়ে ফেলে, ভেজানো দরজাটা আস্তে করে খুলে বাইরে বেরিয়ে আসলাম। চারপাশটা একবার চোখ বুলিয়ে দেখলাম। কেউ জেগে নেই। সবাই গভীর ঘুমে মত্ত।  টিনের চালার ওপর গাছের কালো কালো ডাল ঝুলে রয়েছে। কয়েকটা ডাল চালা থেকে নেমে উপুড় হয়ে মাটির দিকে তাঁকানো, সেখানে কয়েকটা কেঁচো তখন গর্ত খুঁড়তে ব্যস্ত। চোখের মতন পাতারা বাতাসে বারকতক পিটপিট সেরে একটানা ও দৃশ্য দেখায় নিমগ্ন খুব। লম্বা আর নিজের মধ্যে অনবরত প্যাঁচ খাওয়া প্রাণিগুলো অন্ধকারে প্রবেশ করার সময় তাদের অজান্তেই খোড়নের নমুনা ওপরে রেখে যায়। ঝুলে পড়া গাছটার পাশেই শিরা উপশিরার মতো রাতের পুরো আকাশ দখল করে নেয়া বড় গাছের বিরাট বিরাট ডালপালা। ছোট গাছটা মনে হচ্ছে ঘুমে ঝিমুচ্ছে। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ছোট গাছটার সাথে ধাক্কা খেয়ে গাছটা একটু নড়ে উঠলো। তার মাথার উপরের ডালপালায় হঠাৎ নাড়া খাওয়ার
শব্দ। ঝটপট ঝটপট শব্দ করে বিশাল এক ঝাঁক বাদুড় নামলো। এত বাদুড়ের একসাথে নামার শব্দে একটু চমকে উঠলাম। পায়ের তলায় চাপা খায় কেঁচোর খুঁড়ে যাওয়া দানাদার গোল মাটি। উপরের দিকে মুখ তুলে
তাকালাম। আলোর ঝিটে-ফোঁটা বলে কিছু নেই। ঘরের চাল, চালের উপর ঝুঁকে থাকা গাছ, তার উপরে, তারও উপরে এবং তার তারও উপরে শত সহস্র লক্ষ লক্ষ বাদুড় দুলছে। তখন মাথার উপর পুরো আকাশটাই
ডানে বাঁয়ে দুলতে থাকে। মনে হচ্ছে যেন কয়েক লক্ষ চোখ আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে আর অন্ধকারের মধ্যে সবাই আমাকে দেখছে উল্টো করে। আতংকে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। মাটি হাতড়ে একদলা মাটি নিলাম।  ঢিলের মত বানিয়ে সমস্ত শক্তি দিয়ে ও দিকে ছুঁড়ে দিলাম। কালো পাখায় তখন চারিধার এমনভাবে ছাওয়া যে সে জানে, যে কোন একদিকে ঢিল ছুঁড়লে অন্তত ঐ দিকের অন্ধকারটা একটু পাতলা হয়ে যাবে। ঢিলটা কোথায় পড়লো বোঝা গেল না
কিন্তু বাদুড়েরা নাড়া খেয়ে সরসর সরসর করে উড়তে লাগলো। একজোড়া দুই জোড়া বাদুড় নয়, একসঙ্গে আবার সেই শত সহস্র লক্ষ বাদুড় ঝটপট ঝটপট করতে লাগলো।
দলে দলে ঝাঁকে ঝাঁকে তারা একদিকে যেতে লাগলো। বাঁদুড়গুলোর ছায়া থেকে মাটিতে চোখ নামিয়ে দেখলাম, অন্ধকারে একটা ছায়ামূর্তি জনশূণ্য পথ ধরে হেঁটে চলছে।
শাড়ি পরহিত। অন্ধকারের কারণে বলতে পারছিনা শাড়ির রঙটা কি ! নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ হচ্ছে। মেয়েটার পথ চলার মোহনীয় সৌন্দর্য আমাকে চুম্বকের মত আকর্ষণ করছে। চোখে ঘোর লেগে গেছে। আমার মনে হচ্ছে, আমি এখন মেয়েটার কাছে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত। মেয়েটা যেদিকে হেঁটে চলেছে আমি হাওয়ায় ভেসে শুধু তাকে অনুসরন করছি। সৃষ্টির কি অপার সৌন্দর্য !
হাঁটছি না দৌড়াচ্ছি বুঝে উঠতে পারছিনা। অন্ধকারের কারণে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। তবে মেয়েটার নূপুরধ্বনি  অন্ধকারের তীব্রতা  ভেদ করে আমাকে পথ চিনিয়ে নিচ্ছে। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ নূপুরগুঞ্জন থেমে যায়। আমারও ঘোর হঠাৎ করেই কেটে যায়। ভাবছি, এ আমি কোথায় এলাম !
আশপাশে পশুর গর্জনের মত গড়গড় শব্দ শোনা যাচ্ছে। অজানা ভয়ংকর আশঙ্কায় আমার মন কুহু ডেকে উঠলো। দু’হাত হাঁতড়ে দেখলাম আখ আর করচা বাগানের ভিতরে এসে পৌঁছেছি। সামনে এক কদম এগিয়ে দেখলাম জলার পানির শব্দে ব্যাঙ ডাকছে। কোথাও অপেক্ষা করছে ভয়ানক সংকট তাই দিক-বেদ্বিক শূণ্য ভেবে দৌড়াতে লাগলাম আখ, করচার জঙ্গলের মধ্য দিয়ে।
হৃদপিন্ডটাতে হপারের ন্যায় শব্দ হচ্ছে। প্রচন্ড শব্দে মনে হচ্ছে হৃদপিন্ডটা বোধহয় খাঁচা ছেড়ে এখনই বেরিয়ে আসবে।
আকাশে কোন চাঁদ নেই। কৃষ্ঞপক্ষ। অন্ধকারে আমার চোখের অবলাল সংবেদী এখন কাজ করছে। দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকায় আশে-পাশের অবস্থা কিছুটা দেখতে পাচ্ছি। আখবাগানের ফাঁক দিয়ে অন্ধকারের অল্প কালো আলো তির্যকভাবে মাটিতে পড়ছে কিন্তু মাটি তখন এত কালো যে সামান্য ঐ আলো শুষে খেয়ে নিচ্ছে মুহূর্তেই। তাই অন্ধকারের মধ্যে মাটি ও আকাশ পার্থক্য করার মতো তেমন কিছু ফুটে উঠলো না। একটা ব্যাঙ দূরে কঁকিয়ে ওঠে, কোন সাপের মুখে পড়ে সে ত্রাহি চিৎকার দিচ্ছে। একদল ঝিঁ ঝিঁ পোকাও ক্রমাগত ডেকে ডেকে থেমে যায়। যেই ঝিঁ ঝিঁর ডাক থামে বাগানটি হয়ে পড়ে আরও নীরব, দৌড়ানো বাদ দিয়ে হঠাৎ থমকে  দাঁড়াই । এই বাগানে কখনও আসা হয়নি, ডানে বাঁয়ে এদিক সেদিক চেয়ে কোন একটা পথ খুঁজতে থাকি। মাইলের পর মাইল অতিক্রম করার পর এই প্রথম নির্দিষ্ট কোন পথের আশায় কেটে ছিড়ে যাওয়া হাত লতাগুল্ম সরিয়ে এগিয়ে যাই। কুশুলের বাগানের যেখান দিয়ে আমি দৌড়ে যাই, ভেজা মাটিতে  সেখান দিয়েই তৈরি হয় পথ। চলতে চলতে একটা ফাঁকা জায়গা পেয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ি। মনে হয়, কিছু দূরে একজন লোক কোন কিছু ঠেলতে ঠেলতে ক্রমশ দূরে চলে যাচ্ছে। প্রথমবার ভাবি যে তাকে ডাক দিয়ে থামতে বলা প্রয়োজন, তারপর কিছু না বলে লোকটির দিকে দ্রুত পায়ে হাঁটতে থাকি।
অচেনা লোকটি প্রায় আট-নয় ফুট লম্বা, দুই হাত দিয়ে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে একটা পাথর টানা বিশাল ট্রলি। ট্রলি ঠেলবার সময় সাধারণত মানুষ সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। কিন্তু সে ঐ বিশাল ট্রলিটা নিয়ে চলছে কোনরকম না ঝুঁকেই। ট্রলিটার দিকে ভালভাবে তাকিয়ে দেখলাম ওতে রয়েছে অনেক ওজনের বেশ বড়মাপের অনেক পাথর। কিন্তু এত ওজনের পাথর লোকটি
এমনভাবে ঠেলছে যেন ওগুলো পাথর নয়, শিমুল গাছ থেকে সংগ্রহ করা সাদা সাদা তুলোর বল। অপেক্ষা করছিলাম লোকটি কিছু জিজ্ঞেস করবে, কেননা এই
রাতবিরেতে জঙ্গলের মাঝখানে হঠাৎ কোন মানুষের উদয় হওয়া নিশ্চয়ই কোন সাধারণ ব্যাপার নয়, কিন্তু পাথর ঠেলা লোকটি  কিছুই জিজ্ঞেস করে না। আনমনে নিজের কাজ করতে থাকে। আমার কৌতুহূল মন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেরি নিজ থেকেই সে কে, এই পাথর কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে এসব প্রশ্ন করবো।  কিন্তু লোকটি এমনভাবে চলছে যে সে প্রশ্ন করলে উত্তর পাবে, এমন আশা হয় না। পাশাপাশি হাঁটার কারণে  লোকটির চেহারা দেখা যাচ্ছেনা। তবে
মাঝেমাঝে চেষ্টা করছি দুই পা এগিয়ে লোকটির মুখোমুখি তাকাতে-যাতে কাল দিনের আলোয় তার সম্বন্ধে কিছু জানার চেষ্টা করতে পারি। যতবারই চেষ্টা করে দুই পা এগোতে যাই, অচেনা লোকটি ততবারই ভারি পাথরের ট্রলিসহ সব সময় সমান্তরালেই রয়ে যায়। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা ধরে প্রথমবারের মতো দূরের
একটা লোকালয়ে এসে পড়ি। ট্রলি ঠেলা লোকটি সেই লোকালয়ের দিকে চলতে থাকে। লোকটার চলনভঙ্গি দেখে এবার শিওড়ে উঠলাম। একি!  লোকটা মাটিতে পা ফেলে হাঁটতে পাচ্ছেনা কেন  ?
অবাক হয়ে লক্ষ্য করি, লোকটার গাঁয়ে এতক্ষণ যেটা পায়জামা-পাঞ্জাবি বলে ভাবছিলাম সেটা আসলে আস্ত কাফনের কাপড়। ধবধবে কালো। অন্ধকারে বোঝা যাচ্ছিলোনা। তবে, শার্ট-প্যান্ট ও কাফনের কাপড়ের মাঝে পার্থক্য বুঝে উঠা যায়। তবে এত ভারী পাথর নিয়ে অচেনা লোকটা কি করছে, এইসব নিয়ে যখন ভাবতে থাকি তখন দেখতে পাই সেই লোকটি তার ট্রলি থেকে একটা সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো মাংসের স্তূপ তুলে তরতর করে উঠে যাচ্ছে একটা পোড়ো-বাড়ির ছাদে। নারায়ণ গুচ্চুর ভিটের পুরোনো ঘরে।আমার মনে হচ্ছে আমি সে সময় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন এবং সেই গভীর ঘুমের ভেতর অনুভব করছি এ যেন চেপে বসা দুঃস্বপ্ন। অচেনা লোকটা থেকে দু’কদম পেছনে চলে যাই। কিন্তু, কাঁধের উপর হালকা গরম নিঃশ্বাস টের পাই। পেছনে মুরে কোন অতিপ্রাকৃত জিনিষ দেখার সাহস হয়না। নুপুরের ধ্বনিটা কাছেই কোথাও শোনা যায়। চোখের সামনে কোমড়ের অর্ধাংশবিহীন মানুষ দেখার দূর্ভাগ্য নিঃশ্চয় হয়নি। অতিপ্রাকৃত জিনিষ তখনো কোমড়টা তানপুরার সুরের মত করে একেঁবেকে দুলিয়ে চলেছে। পাঁয়ের নুপুরগুলোও সেই দুলুনিতে রিনিঝিনি শব্দে বেঁজে চলেছে। আমার মেরুদন্ড বেঁয়ে শীতল বাতাস নেমে গেল। কাঁধের পিছনে যা দেখলাম তা দেখে স্থির থাকা আর সম্ভব হলোনা। স্যাঁতসেঁতে কিছু আঁশটে তরল আমার কাঁধের উপর চ্যাঁটচ্যাঁট করছে। মুখমন্ডলটা একটু উপরের দিকেই ঘুরিয়ে দেখলাম বিকৃত চেহেরার একজন আমার দিকে তাঁকিয়ে ভয়ংকরভাবে হাঁসছে।
বুকে টের পেলাম বাড়তি এক গাঢ় চাপ। দ্রুত গতিতে নিঃশ্বাস ওঠানামা করে, বুকের ঘাম গড়িয়ে নাভির কালো গর্তে জমা হয়। শরীরে অজানা এক অস্বস্তি, এপাশ থেকে ওপাশ করতে করতে উদ্বিগ্ন মন পালাবার জন্য তাড়া দিতে থাকে। এসবের পর লম্বা অচেনা লোকটি ধীরে ধীরে চলে যায় অন্যদিকে, নুপুরের শব্দ করা প্রাণীটা কোথাও যায়না। আমি আমার দেহে প্রবল এক শিহড়নের অনুভব করতে থাকি। উল্টো ঘুরে ভো-দৌড়। কিন্তু আলো না ফোটা পর্যন্ত দৌড়ে এতদূর এসে বাড়ি যেতে পারছি না, আসলে এখনও বুঝতেই পারছি না আদৌ আমি এখন কোথাই। তাই না থেমে পুনরায় দৌড়ানো শুরু করি। আকাশে অন্ধকার হালকা হয়ে আসছে, হয়তো ভোর আসন্ন, হয়তোবা এতক্ষণ আঁধারে থাকতে থাকতে অন্ধকার সয়ে নিয়েছে চোখ। কান পেতে শুনতে পাই বাতাসে ভেসে আসছে স্রোতের কুলুকুলু ধ্বনি। ভালোভাবে কান পেতে শোনার চেষ্টা করি, তিরতির করে কোন এক জায়গা দিয়ে বয়ে যাচ্ছে পানি। শব্দ লক্ষ্য করে ক্রমাগত দৌড়াতে থাকলে বুঝতে পারি কুলকুল ধ্বনি তীব্রতর হচ্ছে। পিছনে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। পায়ের নিচে মাটির বদলে এখন বালি, এখানে সেখানে ছোট ছোট নুড়ি। ছলছল স্রোতে চারপাশ মুখরিত, এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস বুক জুড়িয়ে দেয়। সে তীর ধরে দৌড়তে দৌড়তে দেখতে পাই অদূরে অনেকগুলো মানুষ স্রোতের ধার ঘেঁষে কি যেন খোঁজাখুঁজি করছে। অচেনা মোহনীয় রূপের পেছনে ছুটে আমি এখন ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। শরীরকে তবুও টেনে টেনে, ঠেলে ঠেলে চলতে থাকি অবিরাম। চোখের আলো ক্রমশ ঝাঁপসা হয় কিন্তু চলার জন্য তখন চোখের প্রয়োজন নেই, অতীন্দ্রিয় কোন অনুভব চালিয়ে নিচ্ছে। এক জায়গায় এসে দেখলাম পথটি দ্বিখণ্ডিত।সেই দ্বিধাবিভক্ত রাস্তার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে পড়ি, দুটি রাস্তাই ক্রমশ উঁচু হয়ে আকাশের দিকে উঠে গেছে। জ্ঞানশূণ্য হয়ে একসময় মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। অদূরের মানুষগুলো কাঁদামাটি মাখা শরীরে আমার দিকে দৌড়ে এগিয়ে আসছে। আখ ক্ষেতের সর্বশেষে চলে এসেছি। এখান থেকে নতুন লোকালয় শুরু! আখক্ষেতের শেষপ্রান্তে এসেই বাঁতাসের ভয়ানক শব্দটা নুপুরের রিনিঝিনি শব্দে রূপ নিয়েছে। তার সাথে আরো একটা শব্দ শোনা যাচ্ছে, দূর আকাশের পরিষ্কার নির্মল বাতাসে ফজরের আযানের মিষ্টি শব্দ ও চাষাদের হৈ-হুল্লোড়!
(সমাপ্ত)
শেয়ার করুন



রহস্য গল্প ; ইকেবানা ।

ইকেবানা । জাপানিজ এই শব্দের অর্থ হল ফুলের শিল্প । জাপানিজ শব্দ ইকেরু অর্থ জীবন আর হানা অর্থ ফুল । ইকেরু এবং হানা এই দুই শব্দ নিয়ে সম্ভাব্য অর্থ  হল ফুল কে জীবন দাও । প্রকৃতি এবং মানুষের সাথের গভীরতম সৌন্দর্য এবং ভালবাসার সম্পর্কের সৃষ্টিশীল প্রকাশই  ইকেবানা । ইকেবানা তৈরির সময় প্রতিটা মানুষকে নিরবতা পালন করতে হয় । যা মানুষের ভিতরের স্বপ্ন ,সৌন্দর্য ,সহ্য এবং ধৈর্য কে অনুশীলন করা হয় । বিভিন্ন ধরনের ইকেবানা আছে । বিশ শতক থেকে ইকেবানার আধুনিকায়ন হয় । ইকেবানায় স্বর্গ ,পৃথিবী আর মানুষ এই বিষয় গুলোই বেশি পরিস্ফুটিত হয় । অধ্যাপকের  স্ত্রীর মুখে ইকেবানার রোমাঞ্চকর ইতিহাস শুনে খুব ভাল লাগল । গত সপ্তাহে বৃষ্টির অধ্যাপকের  বাসায় দাওয়াত ছিল । বাসায় ঢুকেই বৃষ্টি অবাক !  পুরো বাসা কাঁচা পাকা নানা ফুলের সমন্বয়ে অদ্ভুত সুন্দর সব  রঙে সাজানো ।প্রায় ছয়শ বছরের বেশি সময় ধরে জাপানের এই ইকেবানা বা ফুলের শিল্প চর্চা চলছে ।পরে জানা গেল অধ্যাপকের স্ত্রী ইকেবানার শিক্ষক । সে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অনেক জায়গায়  ইকেবানা সহ বিভিন্ন জাপানিজ সংস্কৃতি বিনিময়ের কাজ করেন ।গত বছর বৃষ্টি হোক্কাইডো বিশ্ব বিদ্যালয়ে অক্টোবর সেশনে এসেছে । উন্নয়ন অর্থনীতি বিষয়ে দুই বছরের মাস্টার্স কোর্স । প্রথম ছয় মাস বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক আর বন্ধুদের সাথে পরিচিত হতেই কেটে গেছে । বৃষ্টির একাকীত্বের কথা শুনে অধ্যাপকের স্ত্রী তাকে ইকেবানা শিখাতে চাইল ।এই সুযোগ সে কোনভাবেই হারানো যায়না । এখানে তেমন বাংলাদেশি বড় কোন সংগঠন নেই । বেশির ভাগ বাংলাদেশিরা উচ্চ শিক্ষা এবং গবেষণার জন্য আসে ।তবে খুব বেশি কেউই স্থায়ী হয়না । কালে ভদ্রে বাংলাদেশিদের সাথে দেখা হওয়াটা যেন ভীষণ আনন্দের । চারিদিকে এখন এপ্রিলের তুষার বিলাস । এক অদ্ভুত সুন্দর  সফেদ  শুভ্রতায় ভীষণ  মায়াচ্ছন্ন হয়ে আছে হোক্কাইডো দ্বীপ ।মন শুধু ফেলে আসা অতীত স্মৃতির সমুদ্রে সাঁতার কাটে । মনের অসহায় অনুভূতি গুলো গভীর এক বিচ্ছিন্ন একাকীত্বে নিমগ্ন হয় । বাইরের পৃথিবীর সব নিয়ম ছেড়ে অনেক দূরে নিয়ে যায় । বৃষ্টি তার বিচ্ছিন্নতায় পৃথিবীতে রেখে যেতে চায় জীবনের প্রতি ভালবাসা আর  সৌন্দর্যের গল্প । যে সময় বৃষ্টির অন্য কোন মানুষের ভালবাসার সঙ্গী হয়ে ভিন্ন অধ্যায় রচনা করার  কথা । ঠিক সে একই সময় এই পৃথিবীর চেনা নিয়ম ভেঙ্গে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে একা চলে আসে হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে । মায়ের ভালবাসার নির্ভরতা থাকলেও অজানা ভবিষ্যৎ মাঝে মাঝে অন্তহীন দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় ।  একটি উন্নয়নশীল দেশের মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়া বৃষ্টির  জীবনের গল্প আর চেনা নিয়ম গুলো খুব বেশি মিশ্র অসহায় । বৃষ্টি তুষার স্নান করতে করতে বাসার সামনের একটি মারুতা নামের রেস্টুরেন্ট যায় । যখন মন খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে যায়  অজানা ভবিষ্যৎ এর বোঝা নিয়ে তখন নিজের ভিতরের সৌন্দর্য কে ধরে রাখতে ইকেবানায় মনোযোগ দেয় । খুব অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অনেক ধরনের ইকেবানা বৃষ্টি শিখে নিয়েছে । তাই সেদিন ও বাসায় ফেরার পথে কয়েকটা গোলাপ এবং জাপানিজ লিলি ফুল কিনে নিল । মারুতা রেস্টুরেন্ট এ ঢুকার আধা ঘণ্টা পরের কথা । ফুল গুলো নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা মাথায় ঘুরছিল । হঠাৎ একটি জাপানিজ তরুন হাতে কিছু ফুল নিয়ে বলল , শুভ জন্মদিন । শুভ হউক ।
বৃষ্টি অবাক বিস্ময় নিয়ে সামনে বসা জাপানিজ ছেলেটির দিকে কয়েক পলক চেয়ে রইল । কি বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারল না ।
কিছুটা সময় নিয়ে জানাল , আপনাকে ধন্যবাদ । কিন্তু আমি পুরো ব্যপারটা বুঝতে পারছি না । আমাকে কি পরিষ্কার করে বুঝাবেন ?
জাপানিজ তরুণটি তার হাতের ফুলের তোরাটি টেবিলে রেখে বলল , জাপান যে কেউ কোন রেস্টুরেন্ট কিংবা শপিং মলে নিয়মিত যায় সে একটা পয়েন্ট কার্ড পায় ।
বৃষ্টি বলল , ঠিক । আমার ও একটি পয়েন্ট কার্ড আছে ।
জাপানিজ তরুণটি বলল , সে পয়েন্ট কার্ড নেওয়ার সময় নাম ,ঠিকানা এবং ইমেল এই সব তথ্য দিতে হয় । কিন্তু অনেক স্থানীয়  জাপানিজ ইংরেজি না জানায় আপানার মতো বিদেশিকে সাহায্য করার জন্য
আমিই এগিয়ে এসেছিলাম ।
বৃষ্টি হেঁসে দিয়ে বলল , আসলেই জাপানিজ ভাষা না জানলে এখানে জীবন খুব কঠিন । আপনাকে ধন্যবাদ । আপনার নামটা কি জানা যাবে ?
জাপানিজ তরুণটি বলল , মরি কাওয়া । মরি অর্থ বন এবং কাওয়া হল নদী । আপনাদের বাংলা ভাষায় আমাকে মিঃ বন নদী বলে আমাকে ডাকতে পারেন । হা হা হা ।
বৃষ্টি ও  আবার হেঁসে দিল । আপনি ভাল বাংলা বলেন । এটা শিখেছেন কিভাবে ?
মরি কাওয়া বলল , আমি জাপানিজ একটি কোম্পানির হয়ে বাংলাদেশে তিন বছর কাজ করেছি । বাংলাদেশের জীবনকে উপভোগ এবং বাংলাদেশিদের জীবন জানতেই আমি বাংলা শিখেছি ।
বৃষ্টি বলল , জাপানিজরা মনে হয় একটু বেশি প্রকৃতি প্রেমী । বেশির ভাগ সময়ে জাপানে সব কিছুরই  নাম গুলো প্রকৃতি নির্ভর ।
এবার মরি কাওয়া হেঁসে দিল , মানুষ হল প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ উপাদান । আপনার নাম বৃষ্টি । এটাও কিন্তু প্রকৃতি নির্ভর । মানুষ তার মনের অজান্তেই প্রকৃতির মাঝে জীবন এর রহস্য খুঁজে । প্রকৃতির মাঝে বেঁচে থাকে ।
বৃষ্টি বলল ,মানুষ পৃথিবীর রহস্য এর কাছে খুব অসহায় ।
মরি কাওয়া বলল , এটা খুব সত্যি কথা । খুব অদ্ভুত ভাবে মানুষ প্রকৃতির আপন খেয়ালের উপর চলে । যদি কোন মানুষ এই বিশ্বভূমণ্ডলের উপর আস্থা রাখে এবং ন্যায় বিচার করে ।ঠিক প্রকৃতি ও তাকে নিরবে ছায়া হয়ে ভালবাসা দিয়ে দেয় । প্রকৃতির পৃষ্ঠা থেকে কিছুই হারায় না ।
বৃষ্টির মনটা হারিয়ে গেল ,বাহ !খুব সুন্দর কাব্যিক কথা ।
মরি কাওয়া বলল , কেন নয় ? এতো সুন্দর তুসারস্নাত সন্ধ্যায় একটি অপূর্ব নিভৃত সুন্দর মানুষ একাকী বিশেষ মুহূর্ত অনুভব করবে! প্রকৃতি নিজেই বন্ধু হয়ে ধরা দিয়েছে ।
বৃষ্টি বলল , আপনার হাতের ফুল গুলোর নাম কি ?
মরি কাওয়া ফুল গুলো সামনে এগিয়ে দিয়ে বলল , এই ফুল গুলোর নাম লোটাস । ইকেবানায় এই ফুল গুলো মানুষের ভিতরের খাঁটি হৃদয় এবং অমরত্ব কে প্রকাশ করে । এই ফুল গুলো আপনার বর্তমান ,খোসা গুলো অতীত আর বীজ গুলো ভবিষ্যৎ । সব মিলে একটি দীর্ঘস্থায়ী খাঁটি হৃদয় নিয়ে সুন্দর জীবনের শুভ কামনা ।
বৃষ্টি ভিতরে খুব আবেগ আপ্লুত হল । আবার লজ্জা ও পেল । কিছুই বলতে পারল না । একটুখানি হাঁসি দিল ।
সেদিন মরি কাওয়ার সাথে খুব সুন্দর অভিজ্ঞতা বিনিময় হল । মাঝ পথে দুইটা দিন আরও কিছু ব্যস্ততায় কেটে গেল । হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে মা  শীতের পোশাক পাঠিয়েছে । সাথে একটি ছেলের ছবি । বৃষ্টি কে বিয়ে দিতে পারলে যেন মা যেন শান্তিতে মরতে পারে । কিন্তু কোন কারনে সেই ছবির ছেলেটির সাথে মরি কাওয়ার কোথায় যেন একটা চেহারায় মিল । বৃষ্টির হাত পা কাঁপা শুরু হল । খুব দ্রুত সে মারুতা রেস্টুরেন্ট গেল । আসলে মরি কাওয়া নামের কেউ সেদিন ছিল না । তথ্য গুলো পূরণ  সে ম্যানেজার এর সহযোগিতায় করেছিল । তাহলে টেবিলে রাখা ইকেবানা তৈরির জন্য যে লোটাস ফুল গুলো ! সারা রাত ঘুম হল না । পরের দিন সকালে জীবনের নিয়মে দরজা খুলল । আরও একবার ফুল গুলোকে ছুঁয়ে অস্তিত্ব অনুভব করল ।  ফুল গুলো অদ্ভুত রহস্য হয়ে তার দিকে চেয়ে রইল । একটা মিষ্টি স্নিগ্ধ ছোঁয়া সমগ্র অস্তিত্ব কে ভিন্ন বিশ্বাস এর গন্ধ দিয়ে গেল ।  সহস্র প্রশ্ন রহস্য হয়ে সমগ্র মস্তিষ্কের নিউরন গুলো কে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল ।হয়তো প্রকৃতির বুকে কোন মানুষই একা নয় । মানুষের ভিতরের  গভীর ভালবাসার অনুভূতি গুলোই মানুষকে  নানা রঙে ছুঁইয়ে দিয়ে যায় ।
শেয়ার করুন



ভয়

বিকেল বেলা আকাশটা খুব পরিস্কার ছিল। আকাশে ছিটে ফোটা মেঘও ভাসতে দেখিনি। লাল হতে হতে সূর্যটা যখন বিদায় নিলো তখনো ছিল মেঘ মুক্ত স্বচ্ছ আকাশ। আমার ঘরে বিদুৎ নেই মাস খানেক যাবৎ। বিদুৎ অফিসের লোকজন মিটার খুলে নিয়ে গিয়েছে। তাদের দাবী আমি নাকি গত পাঁচ মাস বিদুৎ বিল দিচ্ছি না। তাদের এতো করে বললাম যে আমার কাজের ছেলে হানিফ মিয়া প্রতি মাসে বিল দিয়েছে, তারা আমার কথা বিশ্বাস করলো না। বাধ্য হয়ে হানিফ কে ডাকলাম। অবাক কান্ড হানিফকে কোথাও খুজে পেলাম না। অথচ গত চার বছর সে আমার কাছে ছিল।
হানিফের বিস্থতা প্রশ্নাতিত ছিল। সে কি শুধু বিদুৎ বিল মেরেছে নাকি আরো কিছু করেছে?
ডজন খানেক মোমবাতি কিনে ছিলাম। সাথে হারিকেন আর কেরোসিন তেল। মোমবাতি শেষ, তাই হারিকেনের লাল আবছা আলোয় বসে তিন দিনের বাসি পেপার পড়ছি।
অজপাড়া গা না হলেও এই গ্রামটা থানা সদর থেকে অনেক দুরে। রাস্তা ঘাট তেমন সুবিধের না। কাচা মাটির রাস্তার উপর ইট বিছিয়ে দেওয়া হয়ে ছিল। তবে সেই ইট এখন আর তেমন একটা নেই, আছে কেবল মাটি।
আমার বাবা কবি ছিলেন। তিনি শেষ জীবনটা গ্রামে কাটাবেন বলে এই সেমিপাকা বাড়িটা করে ছিলেন। কিন্তু তিনি শেষ জীবনটা কাটাতে পারেন নাই। কারন বাড়ির কাজ শেষ হবার আগেই তিনি এই বাড়িতে আসার পথে বাস দুঃর্ঘটনায় মারা যায়। তখন আমি স্কুলে দশম শ্রেনীতে পড়তাম। বাবার সরকারী চাকুরি ছিল। মা পেনশন আর জমানো টাকা দিয়ে আমাদের বড় করেন। আমরা তিন ভাই। সবাই ভাল চাকুরি করছি। ছোট দু’ভাই শহরে বেশ ভাল রোজগার করছে। তবে বাবার ইচ্ছে পুরন করার জন্য আমি এই গ্রামে পড়ে আছি। আমার শহরের বন্ধুরা আমাকে পাগল ভাবছে। ওদের ধারনা আমার মাথার স্কু ঢিলা আছে। তবে আমি স্কু নিয়ে ভাবছি না। আমার মায়ের ধারনা বাবার সব কিছু আমি পেয়েছি। সে আমাকে নিয়ে বেশ বিচলিত। তবে আমার খুব ভাল লাগছে এখানে থাকতে। আমি স্থানীয় কলেজের বাংলায় অধ্যাপনা করছি।
প্রতিদিন পুরো পত্রিকা পড়া আমার নেশা কিন্তু দুঃখের ব্যাপার এখানে সঠিক সময় পত্রিকা পৌছায়না। পিয়নটাও বজ্জাত কখনো কখনো তিন চার দিনের পত্রিকা এক সাথে দিয়ে যায়।
দু’দিন পর আজ বিকেলে পিওন পত্রিকা দিয়ে গেল। বাসি পত্রিকাই মনোযোগ দিয়ে পড়তে ছিলাম, হটাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলো। ধপাস করে জানালার কবাট আছড়ে পড়ল। বিকট শব্দ হল। খোলা জানালা দিয়ে প্রবল বাতাস ঘরে ঢুকে সব কিছু উড়িয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে যেন। আমি দ্রুত জানালা বন্ধ করে ফেললাম। আশে পাশে কোথাও ব্যাপক শব্দে বাজ পড়ল। বিদুৎ চমকাচ্ছে খুব। বাইরে নিকষ কালো অন্ধকার। আকাশে মেঘ জমার ফলে অন্ধকার এত গভির। আধার আমার ভাল লাগে। গভির রাতে আমি জানালা খুলে আধার দেখি। হানিফ অবশ্য আধার খুব ভয় পায়। ওর ধারনা এ বাড়িতে একটা মেয়ে ভুত আছে। যে সাদা শাড়ি পড়ে ঘুরে বেড়ায়। ভুতটার বয়স বেশি না। উনিষ কুড়ি বছর হবে। তবে সে ভয়ানক সুন্দরী। পুকুর ঘাটে প্রায়ই রাতে তাকে দেখা যায়। হানিফ ভুতের ভয়ে অস্থির!
আমি ছোট বেলায় মায়ের মুখে অনেক ভুতের গল্প শুনেছি। তাই হানিফের গল্প বেশ পরিচিত মনে হয়েছে। আমি জানি ভুত বলতে কিছু নেই। সবি দূর্বল চিত্তের মানুষের কল্পনা মাত্র।

হানিফ এই গল্প সারা গ্রাম ভরে শুনিয়েছে কিনা কে জানে? পরসু সন্ধায় চায়ের দোকানদার ফজুলু মিয়া আমাকে ডাকলো,কাছে যেতেই মোলায়েম স্বরে বললো
বাবাজি ভালো আছোনি?
জ্বি। ভালো।
বসো, চা খাও।
না চাচা, আমার হাতে সময় নেই।
এবার তিনি সিরিয়াস ভংঙ্গিতে বললেন, কি দরকার বাবা ঐ অভিশপ্ত বাড়িতে একলা পড়ে থাকার ! তুমি শহরের মানুষ তোমার কি এত বড় রিস্ক নেওয়া ঠিক হইতাছে? ভুত-প্রেত কি বাবা শিক্ষিত দেইখা তোমারে সুযোগ পাইলে ছাইড়া দিবো?
এ ব্যাপারে অন্যদিন কথা বলবো আজ আমার হাতে সময় নেই।
আমি মুচকি হেসে চলে আসায় ফজুলু কাকা বেশ আহত হল।ফজলু মিয়া খুব সুন্দর করে গল্প বলে, তার চায়ের দোকানের কাষ্টমার গণ খুব ভাল ¯্রােতা। ভুত-প্রেত নিয়ে তার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া দু একটা গল্প সে হয়ত আমাকে শুনাতে চেয়ে ছিল। কিন্তু বিকেল বেলা আমার কফি খাওয়ার নেশায় ধরে তাই তাকে রেখে চলে আসি। ফজলু মিয়া বিরবির করে কি যেন বললো। বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল আমার। কিন্তু পিছন ফিরে তাকাইনি।

পত্রিকা থেকে চোখ সরিয়ে আমার রুমে পূর্ব দিকের কোনায় তাকালাম। বাতাস প্রবেশের জন্য যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে সেখানে একটা চড়–ই পাখি বাসা বেধেছে। পাখিটা প্রতিদিন আমার কাজ কর্ম মনোযোগ সহ লক্ষ করে। আজ চড়–ই পাখিটাকে দেখছি না। সে হয়ত তার কোন আতিœয়র বাড়ি বেড়াতে গিয়েছে। আচ্ছা পাখিদের কি আতিœয়র বাড়ি আছে? নাকি সেও ভুতের ভয়ে চলে গিয়েছে!
আমার বাবা বাড়িটা বেশ বড় করেই তৈরী করে ছিলেন। সামনে পুকুর ঘাট। আর উত্তরের দিকে ফুলের বাগান। দক্ষিনে ফাকা মাঠ। সুযোগ পেলে আমি মাঠে গিয়ে বসি। তেমনী গতকালও বসে ছিলাম। তখন মিজান এসে আমার সামনে দাড়ালো। মিজান এই গ্রামেরই ছেলে। বয়স ১৭ বছর হবে। সে কৃষি কাজ করে। আমি বললাম কি কেমন আছ মিজান? মিজান বললো আপনী অনেক সাহসী, না?
হেসে বললাম না, আমি একটা ভিতুর ডিম! মিজান বললো আমি অনেক দিন ধরে গরু চরাই কিন্তু আপনাদের মাঠে এত ঘাস থাকলেও গরু বাধতে পারি না। আমি অবাক হয়ে বলি কেন?
মিজান নিচু স্বরে বলে, যত বারই গরু বাধি এসে দেখি রশি ছিড়ে গরু পলাইছে। এমন কি আপনাগো বাড়ির সামনে দিয়ে গরু নিয়ে যাবার সময় গরু দৌড় দেয়!
আমি হেসে বললাম তোমার গরুর দৌড় দেয় কেন? ও অবাক হয়ে বললো কেন দেয় আপনী জানেন না? আমি মাথা দুলিয়ে বললাম নাতো? কেন দেয়?
ও আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বললো, আপনাদের বাড়িতে ভুত আছে। গরুরা ভুত দেখতে পায় তাই ওরা দৌড় দেয়।
আমি বললাম এমন আজব তথ্য তুমি কোথা হতে পেলে? ও আহত হয়ে বলে ,আমার দাদা বলেছে। দাদা ভুতের ওঝা সে সব জানে। তার দাদা ওঝা বলে মিজানের চোখে খুব অহংঙ্কার। কিন্তু আমি তার বা দাদার সর্ম্পকে কোন আগ্রহ না দেখানোয় সে খুব আহত হয়। আমার উপর রাগ করে চলে যায় মিজান। আমি ছেলেটার রেগে চলে যাওয়া দেখে ভাবি সত্যি পৃথীবিতে সবাই তাদের কাঙ্খিত মূল্যায়ন টুকু চায় না পেলে আহত হয়।
ধপ করে হারিকেন নিভে গেল। ভাবনায় ছেদ পড়ল। টেবিলের ড্রয়ারে আমি নিজ হাতে ম্যাচটা রেখেছি কিন্তু এখন খুজে পাচ্ছিনা। কালো অন্ধকারে চারপাশ ছেয়ে গিয়েছে। দু’চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কে যেন আমার রুমে প্রবেশ করল। হাটা চলার শব্দ পাচ্ছি। পায়ের নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ শুনছি। কিন্তু কাউকে দেখছি না। বুকের ভেতর আচমকা শূন্যতা অনুভব করছি। ভয় লাগছে। ভীষন ভয় পাচ্ছি। কে যেন আমার কাধে হাত রাখল। ভয়ানক ঠান্ডা সেই হাত। ভাবছি দরজা খোলার শব্দ পেলাম না কিভাবে ঢুকলো আগন্তুক!!
শেয়ার করুন



Tuesday, October 20, 2015

পেত্নী এফএমে প্রচারিত একটি ভয়ংকর ভুতের গল্প

কে ? কে ওখানে ? (ভয়ংকর ভুতের মিউজিক) 

কাউয়া রেডিওর 'পেত্নী এফএমে' আপনাদের স্বাগতম। আমরা এখন শুনবো আবুল মিয়ার জীবন ঘটে যাওয়া ভয়ংকর একটি ভুতের গল্প । দুর্বল চিত্তের পাঠকদের অনুরোধ জানাচ্ছি রেডিও বন্ধ করে কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ার জন্য । পরবর্তীতে কোন সমস্যা হলে কাউয়া রেডিও দায়ী থাকবেনা। 

আসুন ,তাহলে আমরা শুনি আবুল মিয়ার ভুতের গল্প... 


আবুল মিয়াঃ সেদিন ছিলো আষাঢ় মাস । আমি বাজার কইরা বাড়ী ফিরতাছি । আমাবইশ্যার রাইত । ঘুটঘুটা আইন্ধাইর । এক হাত দুরের জিনিষও দেখা যায়না । তখন আবার ম্যালা রাইত । গ্রামের রাস্তা তো, একটা কাকপক্ষীও নাই । আমি তো হালার ভয়ে অস্থির । বিভিন্ন সূরা আর দোয়া পড়তে পড়তে হাটতাছি । আমার হাতে ছিল দুইখান ইলিশ মাছ । সাড়ে ৬শ টাকা দিয়া কিনা। হালায় দাম চাইছিলো ২ হাজার । আমি কইছি থাপ্পর দিয়া তোর দাঁত ফালায়া দিমু হারামজাদা ! চিনোস আমারে । যাই হউক , রাত্রে বেলা ইলিশ মাছ নিয়া বারি ফিরতাছি , ইলিশ মাছ আবার ‘তেনাগো’ বিশেষ পছন্দের জিনিষ । সেই কারনে আমার ডর আরো বাইরা গেলো । 
অবশ্য এখনকার ইলিশে আগের সেই গন্ধ আর শুয়াদ (স্বাদ) নাই । ইলিশ আনতেনে আমার নানাজান । আহারে কি গন্ধ !! কি টেস্ট !! আইনা নানীরে কইতেন ... ‘ও করিমের মা ...’ 

উপস্থাপকঃ আমরা সে গল্প না হয় আরেকদিন শুনবো , আমরা মূল গল্পে ফিরে আসি । 

যাই হউক । কিছুদুর হাটার পর হাল্কা চান্দের আলোতে দেখি সামনে মিঞাবাড়ির বটগাছ দেখা যায়। 

উপস্থাপকঃ কিন্তু আপনি তো বললেন আমাবস্যার রাত। 

ইশ , ভাইজান , আপ্নে বড়ই সমস্যা করেন , কইলাম না এইটা ভুতের গল্প । এইখানে চান্দ মিনিটের মধ্যে উঠবো , মিনিটের মইধ্যে নামবো । এতো প্রশ্ন করলে কইলাম আমি নাই , ডাইক্কা আইন্না বেইজ্জত !! 

উপস্থাপকঃ আচ্ছা , আচ্ছা আমরা ঘটনায় ফিরে আসি । আপনি বটগাছ দেখলেন ... তারপর ? 

এই বটগাছের আবার বিরাট কাহিনী । এই গাছের ডালে ফাঁস দিয়া কুলসুমা মরছিল । আহারে কুলসুমা । দেখতে বড়ই সউন্দর ছিল । স্কুলে আইতে যাইতে কুলসুমের সাথে রংতামাশা করতাম । ‘টুনির মা’ কইয়া ডাক দিতাম । কুলসুম কিছু কইতো না । ডরে তার মুখ দিয়া কথাই বাইর হইতোনা । খিক খিক খিক  ... 

একখান ‘বিশেষ’ কারনে কুলসুমা গলায় ফাঁস দিছিল । সেই কথা আপনেরে আলগা কইরা কমু , তয় হেইদিন কুলসুমার কথা মনে হইতে আমি বুঝলাম ‘ডর’ কি জিনিশ । তিনবার সুরা এখলাস পইড়া হাটা দিলাম । পূর্ণিমার রাইত , সব কিছু পস্ট দেহা যাইতাসে । আতকা দেখি আমার সামনে একটা কালা বিলাই । 

আমি বুঝলাম এইটা কুলসুমা ছাড়া আর কেউ না। আমারে শাস্তি দিতে আইছে । আমি মাথা ঠাণ্ডা রাইখা কইলাম ‘আম্মা , তুমি আমারে মাফ কইরা দ্যাও ‘ 
বিলাই এ কয় ‘ম্যাও’ । বড়ই আজিব ব্যাপার !!! 

এইদিকে ‘ভাদ্র’ মাসের গরমে আমি ঘামে ভিইজা জুবজুবা। 

আমি কুলসুমা (বিলাই) রে কইলাম , ‘আমি আর জিন্দেগিতে কোন মাইয়ার দিকে চউখ তুইলা তাকামু না , কেউরে মিসকল দিমুনা, মাফ করো আম্মা , বারি যাইতে দ্যাও ... 
কুলসুমা কয় ‘ম্যাও’ ... চিন্তা করছেন অবস্থা ? 

এমন সময় শুনি পেছনে বেটা মাইনশের গলার আওয়াজ । আমি আপনাদের অনুষ্ঠানের মত কইরা ডাক দিলাম ... ‘কেডা ? কেডা ওনে ?’ 

আওয়াজ আইলো ‘জী , আমি রহিম । ভালা আছেন নি ভাই ?’ 

রহিম রে দেইখা আমার জানে শান্তি আইল । আবার লগে ডর ও লাগলো । এত রাইতে রহিম এইহানে কি করে ? 

সামনে তাকায়া দেখি কুলসুমা (কালা বিলাই) নাই !!! তহন আমার মনের সন্দেহ আরও বাইড়া গেলো । তাইলে কি বিলাইটা রহিমের রুপ ধইরা আইলো ? আমি তাকায়া দেহি আমাদের রহিমের মতো এই রহিমের শইল্যের রঙ ধলা না, কালা !!! বিলাইয়ের রঙ ও কালা আছিল । কুলসুমার গায়ের রঙ ও কালা আছিল । দুইয়ে দুইয়ে চাইর হইতে সময় লাগলো না। 

তয় আমি যে ভয় পাইছি সেইটা রহিম (না কুলসুমার আত্না ?) রে মোটেও বুজবার দিলাম না । একবার যদি ব্যাটা টের পায় আমি ভয় পাইছি , ব্যাটা আমার ঘাড় মটকাইয়া খাইবো । আমি জোরে জোরে হাটতে থাকলাম লগে সূরা পড়তে থাকলাম । বাড়ি আমার আরো মিনিট দশেকের পথ ... কেমতে যে যাই । যত সূরা মুখস্ত আছে সব পড়া শুরু করলাম । এইদিকে রহিম আমার পিছ পিছ হাটতাছে। 

রহিমের সাথে হাল্কা গফসফও করা শুরু করলাম। এর মধ্যে দুইবার রহিম জিগাইলো আমার ব্যাগের মধ্যে কি ? আমি কিছু কইলাম না । হালায় যদি একবার টের পায় ইলিশ মাছ তাইলে আমার আর বাইচা থাহনের কোন আশা নাই । 

কিছু সময় পড়ে আমি রহিমরে কইলাম চইত্র মাসের গরম টের পাইতেছ রহিম ? কেমুন গা জলতাছে ? কিন্তু পেছনে কোন উত্তর নাই ! আমি কইলাম ‘ও রহিম , রহিম ।‘ উত্তর নাই । 

পিছনে তাকায়া দেহি রহিম নাই । আমার ধারনাই সত্যি হইলো । আমি জানের ডরে উইঠা দিলাম দৌড় । কুলসুমার ভুত আবার কোন সময় চইলা আসে ঠিক নাই । 

এমন সময় পেছন থাইকা শুনি রহিমের গলা ‘ও মিয়া ভাই , ও মিয়া ভাই ।‘ কুলসুমার ভুত আবার চইলা আইছে । আমি দৌড় থামাইলাম না । জানের শক্তি দিয়া দৌড়াইতে থাকলাম । কুলসুমার ভুত ‘রহিম’ ও আমার লগে দৌড়াইতে থাকলো । আর কইতে থাকলো ও মিয়া ভাই আমারে লইয়া যান । আমারে লইয়া যান’ আরে আমি কি আর এতোই বুকা ? 

শেষে দৌড়াইতে দৌড়াইতে বাড়ি আইসা পৌঁছাইলাম । এখন আর আমার কোন ডর নাই! এমন সময় হালা ভুতও আইসা উপস্থিত । আমি কইলাম কুলসুমা তুই এইহান থাইকা যা ... নইলে কিন্তু আমি মাওলানারে ডাকমু ... 
ভুত রহিমে আমারে কইলো ‘ ও ভাইজান , আপনের কি হইছে আমারে কুলসুমা কোন ক্যান ? আপনের কি হইছে । 
আমি ভালো কইরা খেয়াল কইরা দেখলাম রহিমের শরীরের ছায়া মাটিতে পড়তেছে । তার মানে এইটা ভুত না , ভুতের শরীরে কোন ছায়া থাকেনা।‘ 
বুঝলাম , এইটা আসলেই রহিম , কুলসুমার ভুত না!! 

আমি রহিমরে কইলাম ‘আমার পিছন থাইকা আতকা তুই গেসিলি কই ?’ 
রহিম শরমের হাসি দিয়া কইল ‘মুততে গেছিলাম ভাই , ক্ষেতের ধারে’ 
আমি আবার কইলাম ‘শালা , কইয়া যাবিনা ?’ 
রহিম কইলো ‘ক্যাম্নে কমু ভাই ? মুতার কথা কইতে শরম লাগে , কিন্তু আপ্নে দৌড় দিলেন ক্যান ? কি হইছিলো ? 
আমি আর সত্য ঘটনা কইলাম না। আমি কইলাম ‘কিছু না , মনে হয় কুলসুমারে দেখছিলাম , তাই দৌড় দিলাম ।‘ 
রহিম রাগ কইরা বলে ‘তাই বইলা আমারে রাইখা দৌড় দিবেন ? যে ভয়ডা পাইছিলাম । যাই হউক আমারে এক খান লুঙ্গি দেন ।‘ 

আমি জিগাইলাম ‘লুঙ্গি চাস কেন ?’ 

রহিম আবারো শরমের হাসি দিয়া কইলো ‘ ভাই অর্ধেক কামের মাঝে আপনে উইঠা দিলেন দৌড় , আমিও দিলাম দৌড় , বাকি অর্ধেক দৌড়াইতে দৌড়াইতেই... ‘ রহিম আর কিছু কইতে পারলোনা। শরমে তার মুখ লাল হইয়া আছে। 

আমি কইলাম ‘ছিঃ রহিম , তুই এতো ডরাস ? তোরে আমার ছুটো ভাই হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা করবো । যাউজ্ঞা , লুঙ্গি বদলাইয়া বাড়িত যা, কাইল্কে আইনা ফেরত দিছ । রহিম লুঙ্গি লইয়া বাড়িত চইলা গেলো। আমিও এই ঘটনার কথা মনে কইরা হাসতে হাসতে বিছানায় শুইতে গেলাম । 

‘বৈশাখ’ মাস । হটাত কইরা ঝড়-তুফান শুরু হইলো । আমি খেতা মুড়ি দিয়া আরামসে ঘুমাইতে গেলাম । আর ভাইবা দেখলাম , রহিম যদি সময় মতো না আইতো তাইলে ঐ কুলসুমার ভুত ‘কালা বিলাইটা’ আমারে জানে মাইরা ফেলতো । কার দোয়ায় বাইচা আইছি কে জানে ? 

শিশ শ শ শ শ...। (মিউজিক) (প্রেত এফ এমের প্রথম পর্বের এখানেই সমাপ্তি)